ব্লুটুথ কি ? (What is Bluetooth in Bangla)


ব্লুটুথ কি ? (What is Bluetooth in Bangla), আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে আমরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণটা জানবো।

আজ বেশির ভাগ electronic device গুলো যেমন smartphone, audio device, laptop, headphone ইত্যাদি গুলোতে Bluetooth technology রয়েছে।

আর, সত্যি বললে আমরা প্রত্যেকেই কিছুটা হলেও ব্লুটুথ মানে কি এবং ব্লুটুথ এর ব্যবহার কিছুটা হলেও জানি।

কারণ, আমরা প্রত্যেকেই এই ফীচারটি আমাদের মোবাইল ফোনে অবশই ব্যবহার করে থাকি।

হে, ব্লুটুথ এর ব্যবহার আমরা মূলত একটি ডিভাইস থেকে আরেকটি ডিভাইস এর মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার (data share) করার জন্য করে থাকি।

আর তাই, বর্তমান সময়ে যেকোনো electronic device এর মধ্যে Bluetooth এর সুবিধে অবশই থাকছে।

এমনিতে, বর্তমান সময়ে data transfer করার বিভিন্ন দ্রুত এবং আধুনিক প্রযুক্তি চলে এসেছে।

যেমন, Wi-Fi হলো এই ধরণের আধুনিক প্রযুক্তির এক দারুন উদাহরণ।

কিন্তু, আগেকার সময়ে একটি মোবাইল থেকে আরেকটি মোবাইলে যেকোনো ধরণের data / file ( audio, graphics, image, video, documents ) এই Bluetooth এর মাধ্যমে পাঠানো হতো।

তবে, এখনো প্রায় প্রত্যেক মোবাইল ফোনের মধ্যে Bluetooth এর সুবিধা অবশই থাকে।

মনে রাখবেন, Bluetooth এর মাধ্যমে file transfer করার জন্যে কেবল একটি device এর মধ্যে ব্লুটুথ থাকলে হবেনা।

মানে, যেই মোবাইল থেকে file transfer করছেন এবং যেই মোবাইল file receive করবেন, দুটো মোবাইলের ব্লুটুথ থাকতে হবে।

ব্লুটুথ নিয়ে এই সাধারণ বিষয় গুলো হয়তো আপনারা আগের থেকেই জানেন।

তবে, আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের বলবো “ব্লুটুথ কি“, (What is Bluetooth in Bengali), ব্লুটুথ কিভাবে কাজ করে, ব্লুটুথ এর প্রকার, ব্যবহার এবং এর লাভ কি কি।

Bluetooth কি ? (About Bluetooth in Bengali)

Bluetooth কি
Bluetooth কি ? এর ব্যবহার এবং প্রকার 

“Bluetooth” হলো এমন একটি wireless technology যেটাকে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন electronic device গুলোর মধ্যে পরস্পরে data / file ট্রান্সফার করার উদ্দেশ্যে।

অন্যান্য wireless communication এর মাধ্যম গুলোর তুলনায়, Bluetooth অনেক কম দূরত্বর মধ্যে data transmission করতে পারে।

মানে, যদি electronic device গুলো অনেক দূরে দূরে রয়েছে, তাহলে Bluetooth এর মাধ্যমে তারা পরস্পরে সংযোগ হতে পারবেনা।

ফলে, data transmission করাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

UHF radio waves এর মাধ্যমে একটি personal area networks তৈরি করে অনেক কম দূরত্বের মধ্যে Bluetooth এর মাধ্যমে data transmission হয়ে থাকে।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে একজন ইউসার কোনো cable, card বা adapter ছাড়াই অন্যান্য ডিভাইস এর সাথে নিজের ডিভাইস টিকে বেতার ভাবে (wirelessly) যোগাযোগ (communicate) করতে পারে।

Bluetooth special interest group” এর দ্বারা এই Bluetooth technology টিকে develop করা হয়েছিল।

এই wireless communication technology র physical range হলো ১০ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত।

Bluetooth এর ব্যবহার মূলত gaming console, smartphones, computers, audio device এর মতো industry গুলোতে ব্যবহার করা হয়।

1994 সালে Ericsson দ্বারা এই Bluetooth technology টিকে বানান (invent) হয়েছিল।

তাহলে, ব্লুটুথ কাকে বলে ?

Bluetooth হলো এমন একটি wireless communication technology যেটাকে যেকোনো ধরণের file বা data ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়”।

ব্লুটুথ এর বৈশিষ্ট গুলো কি কি ?

চলুন এবার আমরা Bluetooth কিছু মূল বৈশিষ্ট গুলো জেনেনি।

  • Bluetooth এর মাধ্যমে audio, video, text, data অনেক সহজেই ট্রান্সফার করা সম্ভব।
  • ব্লুটুথ এর মাধ্যমে computer এবং mobile এর মধ্যে internet share করা সম্ভব।
  • কোনো তার ছাড়া বেতার ভাবে device গুলোর মধ্যে data transfer করানো সম্ভব।
  • 10 meters এর ভেতরে Bluetooth enabled device গুলো পরস্পরে যোগাযোগ করতে পারে।
  • এই প্রযুক্তি অনেক সাধারণ এবং জটিল না। যেকোনো ব্যক্তি সহজেই এর ব্যবহার করতে পারে।
  • Power এর consumption অনেক কম হওয়ার ফলে এই প্রযুক্তি অধিক জনপ্রিয়।
  • অন্যান্য wireless communication technology গুলোর তুলনায় এই technology অনেক সস্তা।
  • এই প্রযুক্তির data rate প্রায় 1Mbps পর্যন্ত। তাই এটা অনেক ফাস্ট কাজ করে।

তাহলে বন্ধুরা, ব্লুটুথ এর বৈশিষ্ট গুলো জানলেন তো।

Bluetooth network মানে কি ?

ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক মানে বুঝতে আপনার বেশি কষ্ট করতে হবেনা।

দেখুন, যখন একাধিন Bluetooth enabled device গুলো ব্লুটুথ এর মাধ্যমে পরস্পরে সংযুক্ত হয়ে থাকে,

তখন device গুলো পরস্পরে যোগাযোগ করার জন্য যেই নেটওয়ার্ক এর সৃষ্টি করে থাকে,

সেই নেটওয়ার্ক টিকেই বলা হয় Bluetooth network.

Bluetooth এর ক্ষেত্রে মূলত দুটি network topologies কে গুরুত্ব দেওয়া হয় –

ব্লুটুথ এর ইতিহাস (History of Bluetooth)

এখন হয়তো আপনারা ব্লুটুথ এর ইতিহাস এর সাথে জড়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিষয়ে জেনেনিতে চাচ্ছেন।

যেমন,

  • ব্লুটুথ এর মালিক কে ?
  • ব্লুটুথ এর আবিষ্কার কে করেছেন ?
  • কখন শুরু করা হয়েছিল এই ব্লুটুথ প্রযুক্তি ?

চিন্তা করবেননা, আপনার মনে চলে আসা প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর এখানে রয়েছে।

Bluetooth এর আবিষ্কার করেছিলেন “Jaap Haartsen” যিনি ১৯৯৪ সালে Ericsson কোম্পানিতে Radio System এর ওপরে কাজ করার জন্যে করেছিলেন।

Jaap Haartsen ছিলেন একজন wireless communications engineer.

এর পর অন্যান্য কিছু কোম্পানি গুলো ১৯৯৮ সালে Bluetooth special Interest Group (SIG) এর গঠন করলেন যাদের উদ্দেশ্য ছিল Bluetooth technology টির উন্নয়ন এবং ডেভেলপমেন্ট এর ওপর নজর দেওয়া।

এই Bluetooth special interest group এর মধ্যে মূল যেই কোম্পানি গুলো ছিল সেগুলো হলো – Sony Ericsson, Nokia, IDM, Intel এবং Toshiba.

আপনারা কি জানেন, Bluetooth নামটি কিভাবে আসলো ?

আসলে, ডেন্মার্ক্ (Denmark) এর একজন রাজা “Harald Bluetooth” এর কাজের ওপরে প্রভাবিত হয়ে এই প্রযুক্তির নাম Bluetooth রাখা হয়েছিল।

“King Harald Bluetooth” কে মূলত দুটো জিনিসের জন্য জানা যেতো,

Harald Bluetooth ছিলেন Denmark এর এমন এক রাজা যিনি সম্পূর্ণ ডেনমার্কের উপজাতি (tribes) গুলোকে একত্র করে একটি একক রাজ্যতে পরিণত করেছিলেন।

তাই, যেভাবে Harald Bluetooth লোকেদের একত্র করেছিলেন ঠিক সেভাবেই এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলোকে পরস্পরে একত্র করার ভাব বা উপমা নিয়েই এর নাম Bluetooth দেওয়া হয়েছিল।

Bluetooth এর বিভিন্ন প্রকার গুলো – (Types of Bluetooth)

এখন যদি আমরা ব্লুটুথ এর প্রকার নিয়ে কথা বলি তাহলে এর মানে দুই ধরণের হতে পারে।

ব্লুটুথ এর আলাদা আলাদা ভার্সন গুলো এবং আলাদা আলাদা রকমের ব্লুটুথ প্রযুক্তি।

এমনিতে types of Bluetooth বললে আমরা এর বিভিন্ন ভার্সন গুলোকেই বুঝি।

  • Bluetooth v1 এটা হলো Bluetooth technology র সব থেকে প্রথম প্রকার / ভার্সন। এই ভার্সন এর ব্লুটুথ প্রযুক্তি টি কেবল  720 kbps এর দ্রুততা দিয়ে data transfer করার ক্ষমতা রাখতো। কার্যক্ষমতা বৈশিষ্ট এবং অন্যান্য প্রচুর বিষয়ে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল এই ভার্শনে। 1994 সালে Bluetooth এর এর version এসেছিলো।
  • Bluetooth v2 – ২০০৪ সালে Bluetooth এর এই দ্বিতীয় version এসেছিলো যেটা অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। সেই সময়, মোবাইল গুলোতে data transfer এর উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করা হতো। অনেক নতুন নতুন এবং উন্নত ফীচার এই ভার্শনে নিয়ে আসা হয়েছিল।
  • Bluetooth v3 – ২০০৯ সালে ব্লুটুথ এর এই উন্নত version আনা হয়েছিল। Bluetooth এর এই version টি file গুলোকে 24MB/s এর দ্রুততা দিয়ে আদান-প্রদান (transfer) করতে পারতো। এটা Bluetooth এর একটি অনেক High Speed version ছিল।
  • Bluetooth v4 – ২০১৪ সালে এই আধুনিক Bluetooth version নিয়ে আনা হয়েছিল। এই Bluetooth version টি সব থেকে নিরাপর (secure) ভার্সন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। 25Mbps দ্রুততা দিয়ে data transfer করার ক্ষমতা রাখে এই ভার্সন। এখানে auto sleep এর একটি feature রাখা হয়েছে যেটা প্রচুর battery / power এর savings করে।
  • Bluetooth v5 – Bluetooth communication technology র সব থেকে latest version হলো Bluetooth v5 যেটা ২০১৬ সালে  launch হয়েছিল। এই ভার্শনে অনেক উন্নত এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। তাই, অনেক battery power খরচ করেই আপনারা দ্রুত গতিতে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন। এটাকে মূলত music headphones, keyboard, mouse এবং অন্যান্য আধুনিক ইলেকট্রনিক উপকরণ গুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ব্লুটুথ এর ব্যবহার গুলো – (Uses of Bluetooth)

বর্তমান সময়ে Bluetooth এর ব্যবহার বিভিন্ন electronic device গুলোতেই করা হয়।

এর মধ্যে কিছু ব্যবহার গুলোর বিষয়ে আমি আপনাদের বলে দিচ্ছি।

  • Bluetooth Tethering হলো Bluetooth এর এমন এক আধুনিক বৈশিষ্ট যার মাধ্যমে আপনি আপনার মোবাইল থেকে কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ করতে পারবেন।
  • যেকোনো দুটো computer device এর মধ্যে file transfer করার ক্ষেত্রে Bluetooth এর ব্যবহার করা হয়।
  • Bluetooth এর মাধ্যমে বিভিন্ন multiplayer game গুলো খেলা সম্ভব।
  • বেতার ভাবে (wirelessly) গান শুনার জন্য Bluetooth enabled headphones ব্যবহার করতে পারবেন।
  • আলাদা আলাদা রকমের device গুলোকে পরস্পরে সংযোক করা হয় Bluetooth এর মাধ্যমে।  যেমন, Wireless gamepad, Wireless mouse / keyboard, Printers ইত্যাদি।
  • অনেক ধরণের GPS device রয়েছে যেগুলো Bluetooth এর মাধ্যমে কাজ করে।
  • বর্তমান সময়ে কম্পিউটারে বেতার ভাবে keyboard / mouse সংযোগ করার ক্ষেত্রে Bluetooth technology ব্যবহার করা হয়।
  • গান শোনার জন্য বিভিন্ন বেতার ভাবে সংযোগ হওয়া stereo headset গুলোতেও Bluetooth এর ব্যবহার করা হয়।

Bluetooth প্রযুক্তির লাভ বা সুবিধা – (Advantages of Bluetooth)

এখন আমরা Bluetooth প্রযুক্তির কিছু লাভ ও সুবিধের বিষয়ে জেনেনিব।

  1. এর মাধ্যমে আপনি কোনো তার ছাড়া বেতার ভাবে দুটো ডিভাইসকে পরস্পরে সংযোগ করাতে পারবেন। কেবল device pairing এর মাধ্যমে অনেক সহজেই এই কাজ সম্ভব।
  2. অনেক low power ব্যবহার করেই এই Bluetooth technology কাজ করে।
  3. দুটো device এর মধ্যে যদি কোনো দেওয়াল (wall) রয়েছে, তথাপিও পরস্পরে সংযুক্ত থাকা ডিভাইস গুলোর মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার সম্ভব।
  4. Infrared technology র তুলনায় Bluetooth technology তে অধিক দূরত্ব (range) কভার হবে।
  5. Voice এবং data transfer এর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি কাজ করে।
  6. Bluetooth এর মাধ্যমে হওয়া data transfer গুলো FHSS প্রযুক্তির মাধ্যমে হওয়া কারণে, এখানে data communication সম্পূর্ণ ভাবে secure থাকে।
  7. আমরা প্রত্যেকেই জানি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে printers, keyboard, mouse, gamepad, head-set, GPS system ইত্যাদি নানান ডিভাইস গুলোতে আমরা বেতার ভাবে সংযোগ করতে পারি। আর তাই, Bluetooth এর ব্যবহার এই ধরণের বিভিন্ন ডিভাইস গুলোতে করা হয়।
  8. যদি আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে Bluetooth নেই, তাহলে আলাদা করে Bluetooth adapter লাগানো সম্ভব।
  9. Bluetooth device অনেক কম দামেই কেনা সম্ভব যেগুলোকে প্রায় প্রত্যেকেই কিনে নিতে পারেন।
  10. বর্তমানে ব্লুটুথ এর নতুন অনেক ভার্সন চলে এসেছে যেগুলো অনেক দ্রুত গতিতে file transfer করতে সক্ষম।

তাহলে জানলেন তো ব্লুটুথ এর সুবিধা এবং লাভ কি কি।

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আমি আশা করছি যে “ব্লুটুথ বলতে কি বোঝায়” বা “ব্লুটুথ কি” বিষয়টা আপনার অনেক ভালো করেই বুঝতে পেরেছেন।

তাছাড়া, about Bluetooth in Bangla, বিষয়টা নিয়ে লেখা আর্টিকেল যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে,

তাহলে অবশই আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন।

এমনিতে যদি আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।



Source link

admin

Professional Graphic Designer

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: